
২০২৫–২৬ হজ মৌসুমে হজে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ হজযাত্রীদের জন্য ঢাকার নির্দিষ্ট সরকারি হাসপাতাল থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫–২৬ সালের হজে গমনকারী হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের আগে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী হজযাত্রীদের মোট ৭টি বাধ্যতামূলক পরীক্ষা দিতে হবে। সেগুলো হলো—ইউরিন R/M/Eর্যান্ডম ব্লাড সুগার (RBS)বুকের এক্স-রে (Chest P/A view)ইসিজি (ECG)সিরাম ক্রিয়েটিনিনসম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা (CBC with ESR)ব্লাড গ্রুপিং ও Rh টাইপিংএছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী ইকোকার্ডিওগ্রাফি, কিডনি আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এন্ডোস্কপি, সিটি স্ক্যানসহ অতিরিক্ত পরীক্ষার নির্দেশনাও রয়েছে।তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ হজযাত্রীরা। ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পরীক্ষা করাতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি কর্মঘণ্টা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হলেও দৈনিক মাত্র ৪০–৫০ জনের বেশি হজযাত্রীর পরীক্ষা করা হচ্ছে না।নির্ধারিত ৬৫০ টাকা সরকারি ফি পরিশোধ করেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে হজযাত্রীদের। অনেক বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীকে শারীরিক কষ্ট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।হজযাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, গত বছর নিজ নিজ জেলা বা অনুমোদিত বেসরকারি হাসপাতাল থেকেই সহজে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করা যেত। কিন্তু এ বছর শুধুমাত্র ঢাকার সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করায় দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে।সচেতন মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি রাজস্ব বাড়লেও সাধারণ হজযাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তারা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বেসরকারি হাসপাতালসহ বিকল্প ব্যবস্থার অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।