
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর নকশা বিভাগে ভর করেছে চরম বিশৃঙ্খলা, জালিয়াতি ও নজিরবিহীন দুর্নীতি। নথিপত্র গায়েব, ট্যাম্পারিং (ঘষামাজা) এবং অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা হাজার হাজার নকশার কারণে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে ঢাকার ভবন সুরক্ষা ব্যবস্থা। অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে বিপুল অঙ্কের অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভবনের অনুমোদন ও নকশার বিবরণ।অরক্ষিত রাজউক ভবন ও নথি নিরাপত্তা সংকটরাজউক ভবনের নিচতলায় রক্ষিত লাখ লাখ নকশা ও ‘ভলিউম বই’ (লগ বই) বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এসব সংবেদনশীল নথি কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো সময় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে ঢাকা শহরের মূল নকশার রেকর্ড চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।অনুমোদন জালিয়াতি ও ‘ট্যাম্পারিং’ বাণিজ্যরাজউকের ফাইল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চার তলা বা ছয় তলার অনুমোদনপ্রাপ্ত ভবনকে ‘ভলিউম বই’-এ ঘষামাজা করে ৯ তলা, ১০ তলা কিংবা ২০ তলা পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। এমন অসংখ্য জালিয়াতির ঘটনা রাজউকের বিভিন্ন ভবনে বিদ্যমান। বিশেষ করে ১৯৯০ বা ১৯৯৫ সালের নকশা বা ভলিউম বই চাইলে ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে অজুহাত দাঁড় করানো হয়। অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে রাজউকের মূল বই থেকে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলা, গায়েব করা কিংবা পরিবর্তন (ট্যাম্পারিং) করার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অঢেল অবৈধ সম্পদরাজউকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে নিম্ন পদের একাধিক ব্যক্তি রাজউকের এই অনিয়ম ও দুর্নীতিকে কাজে লাগিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তদন্তে দেখা যায়, রাজউকের অনেক নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।আইনি ব্যবস্থা ও জবাবদিহির দাবিবিগত ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে বর্তমানে যারা যারা রাজউকের নথি রক্ষণাবেক্ষণ ও নকশা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সকলকে কড়া জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি উঠেছে। একই সাথে, কোনো নকশা কীভাবে গায়েব হলো এবং কীভাবে অনুমোদনের পাতায় ট্যাম্পারিং করা হলো—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি এখন সময়ের খোরাক।