
সড়ক ও জনপথ বিভাগে (সওজ) কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১৪ বছরের চাকরি জীবনে তিনি প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।আব্দুল আজিজ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হাজী গবিন্দপুর ঠনঠনিয়া পাড়ার বাসিন্দা। তিনি সাবেক ইউপি সদস্য ও কৃষক আব্দুল জলিলের একমাত্র সন্তান। পৈত্রিক সূত্রে তার বাবার মালিকানায় ছিল মাত্র পাঁচ বিঘা জমি। অভাব–অনটনের সংসার থেকে উঠে এসে ২০০৭–০৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট কলেজ থেকে পাস করে ২০০৯ সালের অক্টোবরে সড়ক ও জনপথ বিভাগে সার্ভেয়ার হিসেবে যোগদান করেন তিনি।চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়কের পাশে নিজ এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন ‘মেসার্স এস কে’ নামের একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় এক কোটি টাকা। এছাড়া ফেরিঘাট এলাকায় শহীদ কামারুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের সামনে দোকানঘরসহ জমি কিনেছেন, যার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।রাজশাহী শহরের হেতেমখাঁ ঘোষপাড়া মোড় এলাকায় তিনি ‘ক্ষণিকের আশ্রয়’ নামের পাঁচতলা বিলাসবহুল ভবন ক্রয় করেছেন, যার আনুমানিক মূল্য জমিসহ প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া শহরে আরও একটি তিনতলা বাড়ি, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ভবনের পাশে কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট এবং গ্রামের বাড়িতে আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। বাবার নামে আরও ১০ বিঘা জমি কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে।লিজের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগস্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নওগাঁ ও রাজশাহীতে কর্মরত অবস্থায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমি লিজ দেওয়ার কাগজ করে দেওয়ার নামে শত শত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আব্দুল আজিজ। অনেক ক্ষেত্রে মৌখিক লিজ দেখিয়েও টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন জানান, সড়ক বিভাগের জমি তার কাছ থেকে লিজ নেওয়ার সময় আজিজ নিজেই কাগজপত্র করে দেন এবং এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেন।ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত অনৈতিকতার অভিযোগনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মচারীর অভিযোগ, সওজের জমিতে ভবন পড়েছে—এমন ভয় দেখিয়ে এক ভবন মালিকের কন্যাকে বিয়ে করেন আব্দুল আজিজ। পরবর্তীতে তাকে তালাক দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া তার পরিবারের কাছে ৫২ ভরি স্বর্ণ মজুদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।অভিযুক্তের বক্তব্যএ বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“বাড়ি ছাড়া শহরে আমার তেমন কিছু নেই। আরডিএ ভবনের পাশে একটি প্লট কিনেছি, সেটিও শেয়ারে।”তদন্তের দাবিস্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে আব্দুল আজিজের অর্জিত সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হোক এবং প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।