
নারী কেলেঙ্কারি এবং মাদক সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের জেরে গাইবান্ধায় জাহাঙ্গীর নামের এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৯ জুন) তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গতকাল শনিবার (২০ জুন) রাতে গাইবান্ধার ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (টিআই) আলতাব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।স্থানীয় ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাফিক সচেতনতা নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করতেন। এই কনটেন্ট তৈরির সূত্র ধরেই এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তার সখ্য ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।ভাড়া বাসায় অবরুদ্ধ ও মাদক উদ্ধারগত ১৭ জুন রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীর সঙ্গে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন বাসাটি ঘিরে ফেলে এবং তাদের অবরুদ্ধ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবরুদ্ধ করার পর তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য (ইয়াবা) উদ্ধার করা হয়।অর্থ লেনদেন ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাএলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হওয়ার পর মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে ওই রাতেই অভিযুক্ত সার্জেন্ট ও নারীকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার দিন পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হলেও, গত শুক্রবার (১৯ জুন) থেকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বস্তরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ও পুলিশের অ্যাকশনসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।গাইবান্ধার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) আলতাব হোসেন জানান, পলাশবাড়ীর ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে এবং এর নেপথ্যে কী ঘটেছিল তা জানতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।