
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক ব্যক্তিকে হত্যার প্রায় ১১ মাস পর চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ জুলাই সন্ধ্যায় কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন বিকেলে বড়খারচর মধ্যপাড়ার একটি ঘাসক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় নিহতের মা দিলুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও থানা পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।পরে পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা মামলাটি তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করা হয়। গত ১ জুন হুসনা খাতুন (৪৫) এবং ৪ জুন শহীদ মিয়া (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, নিহত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে হুসনা খাতুনের পূর্ব থেকে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শহীদ মিয়া তার স্ত্রীকে খড় আনতে পাঠান। পরে নিকটবর্তী একটি নেপিয়ার ঘাসক্ষেতে জাহাঙ্গীর ও হুসনাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান তিনি।এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে শহীদ মিয়া ছুরি দিয়ে জাহাঙ্গীরের পিঠ ও পেটে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে মরদেহ ফেলে রেখে চলে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া স্বামী-স্ত্রী উভয়েই আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।