
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক মাদক মামলায় জব্দকৃত ভারতীয় গাঁজার একটি বড় অংশ আত্মসাৎ এবং আসামিকে থানায় ডেকে হুমকির দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলার ১ নম্বর আসামি ও মাদক কারবারি চালক মিজানুরের করা এই বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলার এজাহার, আসামিদের বক্তব্য এবং পুলিশের অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জটিল প্রশ্ন।অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন— সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই (নিঃ) জনি কান্তি দে, এসআই (নিঃ) মো. কবির হোসেন, এসআই (নিঃ) আলী আহমেদ এবং কনস্টেবল মো. জাহাঙ্গীর আলম।৮৪ কেজি গাঁজা গায়েবের দাবিমামলার এজাহার অনুযায়ী, একটি পিকআপ ভ্যানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা বহনের সময় চালক মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে প্রায় ১ মাস ২৭ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে পিকআপ চালক মিজান (২২) গণমাধ্যমের সামনে ভিডিও বক্তব্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেন।মিজান স্বীকার করেন যে উদ্ধারকৃত গাঁজা তার ছিল এবং তিনি মাদক কারবারে জড়িত। তবে তার দাবি, পিকআপে মোট ৭টি বস্তায় ১৪৪ কেজি গাঁজা ছিল। সুয়াগাজী বাজারের পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি সংযোগ সড়কে পিকআপটি থামিয়ে তার সামনেই পুলিশ ৪ বস্তা (প্রায় ৮৪ কেজি) গাঁজা একটি সিএনজিতে করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। পরে আদালতে তাকে মাত্র ৬০ কেজি গাঁজা দিয়ে চালান দেওয়া হয়।গ্রেপ্তার স্থান ও এজাহারের অসঙ্গতিমিজানের ভাষ্যমতে, তাকে ভাগলপুর এলাকা থেকে আটক করা হলেও মামলায় গ্রেপ্তারের স্থান হিসেবে চৌয়ারা বাজারের ফুলতলী এলাকার কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ।এ ছাড়া এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ড্রাইভারের ডান পাশের সিটে থাকা ব্যক্তি পালিয়ে গেছে’। এই বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বাংলাদেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ পিকআপ ভ্যানে চালকের আসন থাকে ডান পাশে, যার ডান দিকে কোনো সিট বা বসার জায়গা থাকে না।