
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে গড়ে ওঠা কিছু স্পা সেন্টার, গেস্ট হাউস এবং সিসা লাউঞ্জের আড়ালে চলছে ভয়াবহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আইনবহির্ভূত এসব প্রতিষ্ঠানে মাদক সেবন, অনৈতিক কার্যকলাপ এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো মারাত্মক অপরাধমূলক ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের ফাঁদঅনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশেষ করে গুলশান-১ এর কিছু ভবনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণীদের আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের একপ্রকার আটকে রেখে এসব অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও অনৈতিক চক্রের যোগসাজশস্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গুলশান ও বনানী এলাকায় এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ, এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা মাসোহারা দেওয়া হয়। এই অনৈতিক চক্রের সঙ্গে গুলশান থানার কয়েকজন কর্মকর্তার নামও জড়িয়েছে। প্রতিবেদকের হাতে আসা কিছু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ও স্ক্রিনশটে পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, এর সত্যতা বা প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।ওসি-র বক্তব্য ও স্থানীয়দের দাবিঅভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানান:”সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তারা এই অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।