
ফেনীর মহিপালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক চারটি হত্যা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল শুনানিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফেনী সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান এ আদেশ দেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাবেক এ সংসদ সদস্যকে আদালতে সশরীরে হাজির না করে পূর্বানুমতি অনুযায়ী ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত করা হয়।আদালত সূত্রে জানা যায়, সাইদুল ইসলাম শাহী, জাকির হোসেন শাকিব, ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ এবং সরোয়ার জাহান মাসুদ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানান।বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, শুনানির একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “এখন ক্ষমতা আছে, গ্রেফতার দেখান। আমরাও এটার শেষ দেখে নেব।”পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আদালত দ্রুত চার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন এবং ভার্চুয়াল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে এ বিষয়ে আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের আর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।এদিকে আদালতে হুমকির অভিযোগের ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একজন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে থানার একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি।ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের বিষয়টি স্বীকার করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং পুলিশ এ নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ অবহিত করেনি।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ফেনীর মহিপাল এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় নিহতদের ঘটনায় একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।