
বাবার নামীয় একটি ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নির্বিঘ্নে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকার পরও তিনি বারবার পদোন্নতি পেয়েছেন। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার নাম মো. শরিফুল ইসলাম, যিনি বর্তমানে বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে বেবিচকে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন শরিফুল ইসলাম। চাকরির ভিত্তি হিসেবে তিনি তার বাবা মো. মোশাররফ হোসেনের নামে একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করেন, যা সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল বলে অভিযোগ উঠেছে।সনদে অসঙ্গতি ও জামুকার বক্তব্যঅভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইস্যুকৃত ওই সনদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রচলিত নিয়মে মুক্তিযোদ্ধা সনদে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর থাকার কোনো নজির নেই। এছাড়া, গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পর্যালোচনা করেও মোশাররফ হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর কর্মকর্তারা জানান, সরকারি গেজেটে নাম না থাকলে কাউকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে গেজেটই চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গণ্য হয়।শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগতদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথিপত্র অনুযায়ী, ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া ছাড়াও শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে:২০১৭ সালের অনিয়ম: ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার নির্মাণকাজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ।দুদকের অনুসন্ধান: বিভিন্ন প্রকল্প, রক্ষণাবেক্ষণ ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলে।কোয়ার্টার সংস্কারে নয়ছয়: কাওলা বেবিচক কোয়ার্টার সংস্কার কাজে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।দুদকের মামলা: কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রয়েছে।মামলার পরও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্নসবচেয়ে চমকপ্রদ ও আলোচিত বিষয় হলো, এতসব গুরুতর অভিযোগ এবং দুদকের মামলা থাকার পরও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শরিফুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে পদোন্নতি পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হয়েছেন। এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া নিয়েও এখন বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।