
খুলনার অপরাধজগৎ নিয়ে অনুসন্ধানে বারবার উঠে এসেছে পুলিশ পরিদর্শক তৈমুর ইসলামের নাম। বর্তমানে তিনি খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত থাকলেও ভুক্তভোগী, স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ আদায় এবং অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি বা প্রতিষ্ঠান দখলে সহায়তা, ব্যক্তিদের আটক করে হয়রানি এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রভাব বিস্তারের মতো নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে কথা বলা ১৩ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে অধিকাংশই নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর কেএমপিতে যোগ দেন তৈমুর ইসলাম। এরপর থেকে তিনি ডিবির পরিদর্শক (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, খুলনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। খুলনা সদরে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশও কেটেছে এই অঞ্চলে। চাকরিজীবনের দীর্ঘ সময় খুলনায় দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রশাসন ও স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এর আগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা একটি রিসোর্ট প্রকল্পের জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি কেনার অভিযোগে আলোচনায় আসেন। এছাড়া একাধিকবার বদলির আদেশ জারি হলেও তা বাতিল হওয়ায় দীর্ঘদিন কেএমপিতে তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, খুলনা পুলিশের আরও অন্তত ১৭ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।দ্রষ্টব্য: উল্লিখিত অভিযোগগুলো বিভিন্ন ভুক্তভোগী ও সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা প্রয়োজন।