
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উত্তরা ব্যাংক পিএলসি-এর গোপীনাথপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ আরিফুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রূপালী ব্যাংক কর্মচারী সংঘ (রেজিঃ নং বি-১০৪৯, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত)-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবিলম্বে হত্যাকারী মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং ফাঁসির জোর দাবি জানান। একই সাথে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণেরও দাবি তোলা হয়।ঘটনার প্রেক্ষাপটউত্তরা ব্যাংকের গোপীনাথপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ আরিফুল ইসলাম ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত ও দাপ্তরিক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী আলী হোসেনের ও তার সহযোগীদের নৃশংস হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক জখম করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাংকের ঋণ আদায় ও পূর্ববিরোধের জের ধরেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।মানববন্ধনে বক্তাদের ক্ষোভ ও দাবিপ্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্যাংকের লোন আদায়সহ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সৎ ও দক্ষ ব্যাংক কর্মকর্তাকে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ন্যাক্কারজনক। এই ঘটনা পুরো ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে।বক্তারা প্রশাসনের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:অবিলম্বে গ্রেপ্তার: প্রধান আসামি মাদক ব্যবসায়ী আলীসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে।সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি): দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে খুনিদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।পরিবারের ক্ষতিপূরণ: নিহতের অসহায় পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: মাঠপর্যায়ে কর্মরত সকল ব্যাংকার ও কর্মচারীদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তার এমন নির্মম পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। খুনিদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”— রূপালী ব্যাংক কর্মচারী সংঘের নেতৃবৃন্দ