
দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভূয়া যানবাহন রেজিস্ট্রেশন প্রদানের অভিযোগে বরিশাল বিআরটিএ’র সাবেক সহকারী পরিচালক মো. শাহ-আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আজ ২৬ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালত তার স্থায়ী জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায় দায়িত্ব পালনকালে শাহ-আলম থ্রি-হুইলার ও প্রায় ১,১০০ মিনি ট্রাকসহ মোট প্রায় ১,২০০ অবৈধ যানবাহনের ভূয়া রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন দেন। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি প্রায় ২২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শাহ-আলম ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিআরটিএতে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে দায়িত্বে থাকাকালীনও তিনি প্রায় ৯০০ থেকে ১,০০০ অবৈধ যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।পরবর্তীতে ২০২২ সালে বরিশাল বিআরটিএতে যোগদানের পর মার্চ থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে অসংগতিপূর্ণভাবে মোট ২৫৫টি অবৈধ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন প্রদান করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে বিআরটিএ সদর দপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) গত ২৯ নভেম্বর ২০২২ তারিখে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।তবে তদন্ত চলাকালীন সময়েও শাহ-আলম অনিয়ম বন্ধ না করে ২০২২ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আরও প্রায় ৮৯টি অবৈধ যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন দেন। এসব রেজিস্ট্রেশনের মালিকানা দেখানো হয় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের নামে, যা বিআরটিএ’র আইন ও অফিস আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।উল্লেখ্য, অবৈধ যানবাহন রেজিস্ট্রেশনের মামলায় শাহ-আলম পূর্বে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। তবে স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।