
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে ঘুষবানিজ্য ও দায়িত্বে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘুষের বিনিময়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে সেখানে সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদায়ী এক পুলিশ সুপার এবং বিজয়নগর থানার বর্তমান এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে মামলার তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিজয়নগরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করে জানান, তিনি সিলেটের মৌলভীবাজারে বসবাস করেন এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি ২০২৪ সালে মৌলভীবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: ২০০৮/২০২৪)। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে ন্যস্ত হয়।তার অভিযোগ, মামলার প্রকৃত তথ্য জানার পরও তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণে জালিয়াতি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এসব তথ্য তিনি লিখিত ও মৌখিকভাবে বিভিন্ন জায়গায় তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে বিজয়নগর এলাকায় পুলিশের ওপর একটি হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা না করে উল্টো অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। হামলার শিকার পুলিশ সদস্যরা অভিযোগ জানাতে চাইলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি উঠেছে।স্থানীয়দের মতে, এর ফলে বিজয়নগর থানার আশপাশ এলাকা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। কুখ্যাত সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর তৎপরতা বেড়েছে এবং তারা প্রকাশ্যেই সাধারণ মানুষের বাড়িতে হামলা, ভয়ভীতি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও ও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।আরও অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এক সন্ত্রাসীর স্বজন পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওই সাংবাদিককে আক্রমণ করছে। তবুও এ ঘটনায় বিজয়নগর থানায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ঘুষ ও প্রভাবের কারণে যদি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বিজয়নগরে আইনের শাসন ভেঙে পড়বে। তারা মনে করেন, পুলিশের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।প্রতিবাদ ও দাবিএলাকাবাসী ও মানবাধিকারকর্মীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের দাবি—বিজয়নগর থানার বিরুদ্ধে ওঠা সব ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।পুলিশের ওপর হামলা ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।তদন্ত প্রক্রিয়ায় জড়িত অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিজয়নগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে এবং এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।