
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অবৈধ থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশার দাপট এবং একই সাথে হকার ও অবৈধ স্থাপনা দ্বারা ফুটপাত দখল চরম আকার ধারণ করেছে। যত্রতত্র বিদ্যুৎ চুরি, অবৈধ গ্যারেজ ব্যবসা, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট এবং পথচারীদের হাঁটার পথ জিম্মি করার কারণে দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ খাত ও নাগরিক জীবন এখন বড় হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে এই অবৈধ বাহন বন্ধ এবং ফুটপাত পুরোপুরি উচ্ছেদে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালুর কোনো বিকল্প নেই।ক্রাইম অব ২৪ মিডিয়ার এক গোপন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চক্রের ভয়াবহ চিত্র এবং তা দমনে কিছু জরুরি ও কঠোর পরামর্শ তুলে ধরা হলো:### ১. বিদ্যুৎ চোর ও গ্যারেজ মালিকদের ৫ বছরের কারাদণ্ডঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে—বিশেষ করে বাসাবো, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ এবং পুরান ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত অবৈধ গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। * **অবৈধ সংযোগ:** সারারাত মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে এসব গ্যারেজে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে। * **প্রস্তাবিত শাস্তি:** বিদ্যুৎ চুরির মূল হোতা ও লাইনদাতাদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে **৫ বছরের কারাদণ্ড** দিতে হবে। * **ভূমির মালিকের সাজা:** যে জায়গার ওপর এই অবৈধ গ্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে, তার মালিককে সরাসরি অপরাধী সাব্যস্ত করে **ইনস্ট্যান্ট ৫ বছরের জেল অথবা ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা** করার বিধান চালু করতে হবে।### ২. ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও উচ্ছেদ অভিযানঅটোরিকশার পাশাপাশি ঢাকা শহরের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ ‘ফুটপাত’ এখন পুরোপুরি অপরাধী ও অবৈধ দখলদারদের কব্জায়। * **পথচারীদের অধিকার পুনরুদ্ধার:** সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে হাঁটার অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ফুটপাতের সকল অবৈধ দোকানপাট, চৌকি ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। * **জিরো টলারেন্স:** ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার সমস্ত ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।### ৩. রাজনৈতিক সিন্ডিকেট উৎখাত ও ব্যাটারি বাজেয়াপ্তকরণবিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, কিশোর গ্যাং ও যুবলীগের একটি বড় সিন্ডিকেট ঢাকা শহরে প্রায় ৩৫ লক্ষ অবৈধ অটো নামিয়ে এবং ফুটপাত দখল করে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে। এমনকি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গোপনে এই রিকশার সংখ্যা ও ফুটপাতে চাঁদাবাজি আরও বাড়ানো হচ্ছে। * **অভিযান ও উচ্ছেদ:** এক রাতেই ম্যাজিস্ট্রেট ও Lincolnshire রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে সমস্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি খুলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং ফুটপাত উচ্ছেদ করতে হবে। * **আন্দোলনকারীদের কঠোর শাস্তি:** রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে যারা এই অবৈধ নৈরাজ্য সচল রাখার দাবিতে বিশৃঙ্খলা বা আন্দোলন করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হস্তে দমন ও দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।### ৪. চায়না পার্টস আমদানি ও এলসি (LC) বন্ধএই থ্রি-হুইলারের মূল ইঞ্জিন, মোটর এবং ব্যাটারি মূলত চীন থেকে আমদানি করা হয়। * **২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা:** আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অটোরিকশার ব্যাটারি এবং পার্টস আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। * **উচ্চ কর (Tax) আরোপ:** চলমান পার্টসগুলোর ওপর আকাশচুম্বী ট্যাক্স বসাতে হবে এবং বিলাসবহুল শিপে বা এলসির মাধ্যমে এসব যন্ত্রাংশ আনা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।> **জাতীয় নিরাপত্তার হুঁশিয়ারি:**> এই মুহূর্তে যদি অবৈধ থ্রি-হুইলার ও ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং আইন পাস করা না হয়, তবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা এবং বিদ্যুৎ খাত পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। যেকোনো মুহূর্তে দেশে আবারও বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।> ### দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বানঅবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ এবং ফুটপাত দখলদারদের সন্ধান দিতে পারলে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ **পুরস্কারের ঘোষণা** দেওয়া উচিত। বিদ্যুৎ মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হচ্ছে—জনগণের জানমাল রক্ষা, যানজট মুক্তি এবং জাতীয় বিদ্যুৎ ও অর্থনীতি বাঁচাতে অবিলম্বে কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই নৈরাজ্য চিরতরে বন্ধ করুন।