
গাজীপুর-৮ আসনের প্রয়াত নেতা হান্নান শাহের ছেলে রিয়াজুল হান্নান বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় বিতর্ক ও অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, তার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সহিংসতা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।অভিযোগে উঠে এসেছে শামসুল হক রোকন, বাজার সেক্রেটারি বারেক, সুরুজ মেম্বার, রফিক এবং জলিল চেয়ারম্যানের নাম। স্থানীয়রা বলছেন, রোকনের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী রাতে গোপন বৈঠক করে এলাকার রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব প্রয়োগ করে এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালায়।উল্লেখ্য, রশিদ ছিলেন বিএনপির যুবদলের সভাপতি। তার নেতৃত্বে গোষ্ঠীর কিছু সদস্য অভিযুক্ত, এবং তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তথ্যমতে, রোকন অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সক্রিয় সংযোগ রাখতেন এবং বিএনপিতে ঢুকেও পুরনো সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।ইদ্রিস হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে, শামসুল হক রোকন ২য় আসামি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া মামলার ১৬৪ ধারায় আরও ৫ জনকে আসামি হিসেবে তোলা হয়েছে এবং স্থানীয়দের দাবি, তারা প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত। একইসঙ্গে, জলিল চেয়ারম্যান, যিনি একসময় আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন, তাকেও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।স্থানীয়দের মতে, রোকনের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া সম্পদ ও প্রভাব সম্পর্কেও উদ্বেগ রয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, তিনি থানা ও প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নানা কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সহিংসতা চালিয়ে আসছেন।প্রতিবাদকারীরা বলছেন, বিএনপির জন্য এসব নেতারা হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের মতে, শামসুল হক রোকন, রশিদ এবং অভিযোগে জড়িত অন্যান্য নেতাদের দল থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা উচিত, নইলে বিএনপি ভবিষ্যতে কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না।স্থানীয়রা আরও দাবি করেছেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃস্থাপন এবং এলাকার শান্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।