
সাফল্যের চূড়ায় থাকা এনআরবিসি (NRBC) ব্যাংকে এবার ভর করেছে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কালো থাবা। ব্যাংকের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এবং তার মনোনীত এমডি তৌহিদুল আলম খানের বিরুদ্ধে ব্যাংকটিকে ঘিরে এক গভীর ‘নীল নকশা’ বাস্তবায়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।## পুরোনো ইতিহাস ও বিতর্কিত এমডির নিয়োগঅনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের বোর্ড সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে দেয়। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব আলী হোসেন প্রধানিয়া এমডি হিসেবে বেছে নেন তার পুরোনো সহকর্মী তৌহিদুল আলম খানকে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমডি তৌহিদুল আলম খানের অতীত ইতিহাস বেশ বিতর্কিত। তিনি এর আগে কোনো ব্যাংকেই ৬ মাস থেকে ১ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সর্বশেষ ন্যাশনাল ব্যাংকে নতুন পর্ষদ আসার পর এই এমডির সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অনিয়ম ফাঁস হলে, তিনি মুচলেকা দিয়ে তথা বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর প্রায় এক বছর বেকার থাকার পর আলী হোসেন প্রধানিয়ার হাত ধরে তিনি এনআরবিসি ব্যাংকে যোগ দেন। এনআরবিসিতে যোগ দেওয়ার এক বছরের মধ্যেও তিনি অন্য চারটি ব্যাংকে ভাইভা দিয়ে সফল হতে পারেননি বলে জানা গেছে।## এক বছরেই সিন্ডিকেট ও ‘নিয়োগ বাণিজ্য’এনআরবিসি ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এমডি তার পুরোনো সিন্ডিকেট সদস্যদের ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া শুরু করেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি তার সিন্ডিকেট পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে প্রায় ২০ জন এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দিয়েছেন।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দুর্বল ব্যাংকের জনবলকে টার্গেট করে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে। দেশের যেসব ব্যাংক বর্তমানে বন্ধ হওয়ার উপপ্রান্তে বা সংকটে রয়েছে—যেখানে কর্মকর্তাদের বেতন অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও ক্যাশ তোলার সুযোগ নেই, সেই সব ব্যাংকের অসহায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করেছে এই সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে প্রত্যেক কর্মকর্তার কাছ থেকে **১০ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকার** বিনিময়ে প্রায় একশোরও বেশি অফার লেটার ইস্যু করা হয়েছে।## ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান:> “বর্তমান বাজারে মাত্র ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে এনআরবিসি ব্যাংকের অফার লেটার পেয়েছি, এটা আমার সৌভাগ্য।”> একইভাবে ছাঁটাই বা সংকটে পড়া পদ্মা ব্যাংকের এক সাবেক কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে এনআরবিসিতে কর্মরত, তিনিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বড় অঙ্কের লেনদেন ও অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি উন্নয়নশীল ও সম্ভাবনাময় ব্যাংকে এভাবে অর্থের বিনিময়ে অদক্ষ ও বিতর্কিত সিন্ডিকেট গড়ে তুললে ব্যাংকটি দ্রুতই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।