
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংঘটিত প্রায় ২০ লাখ টাকার ডাকাতির ঘটনার চার বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল দিবাগত রাত তথা ১০ এপ্রিল ভোররাতে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন বাড়ৈইপাড়া এলাকায় ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ফারুক হাসানের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। বাধা দিলে ফারুক হাসান, তার স্ত্রী, ভাই মাসুম ও চাচা গিয়াস উদ্দিন গুরুতর আহত হন; এ সময় মাসুম গুলিবিদ্ধ হন।একই রাতে খায়রুল বাশার ও তমিজ উদ্দিনের বাড়িতেও ডাকাতি হয়। ঘটনায় মোট প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট হয়। এ ঘটনায় ফারুক হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ প্রায় ১০ মাস তদন্ত চালানোর পর ২০২৩ সালের ৬ মার্চ মামলাটি পিবিআই নারায়ণগঞ্জে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মো. মফিজুর রহমান।তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হোসেন মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। তাকে অন্য একটি মামলায় হাজতে থাকা অবস্থায় শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে রূপগঞ্জের বরপা উত্তরপাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে ডাকাত দলের আরেক সদস্য মো. আজিজুল হক ভূইয়া ওরফে আজিজুল হককে গ্রেফতার করা হয়।রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুল হক ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০২২ সালের ওই রাতে ১৫-২০ জনের একটি পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য হিসেবে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে একাধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেন তারা।এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।