
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় মা ও তার তিন কন্যাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে এক যুবক। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে ওই যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিপা আক্তার (৮)। গণপিটুনিতে নিহত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)।চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত চারজনের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে মেজো মেয়ে ইকরার আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের ক্ষত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ফুসফুস বাইরে থেকে দৃশ্যমান হচ্ছিল।রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হলে শাহিনুর বেগম, বড় মেয়ে সায়মা এবং ছোট মেয়ে শিপাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।এদিকে, হামলার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, অন্তর মজুমদার আগে প্রায় দেড় বছর একই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। সাত থেকে আট মাস আগে তিনি সেখান থেকে অন্যত্র চলে যান। পূর্বপরিচয়ের সুযোগে তিনি বাসায় প্রবেশ করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ছেলে সিফাত একসঙ্গে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে গভীর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যেও এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে।