
বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন যে সারা দেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজ এবং মাদকের সমস্যা রয়েছে। তিনি শনিবার (২৫ জুলাই) শহরের মাসদাইর এলাকার মুসলিম একাডেমিতে এক দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন।তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, “সারা দেশে চাঁদাবাজদের তালিকা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজের তালিকা নারায়ণগঞ্জের। অথচ বড় বড় নেতার অভাব নেই, কথারও অভাব নেই। কিন্তু চাঁদাবাজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এটা পত্রিকায় দেখেছি।”তিনি আরও বলেন, “এখন অবস্থা মাসদাইরে এমন, মাদক যেভাবে যুব সমাজে ঢুকেছে, মেয়ে বিয়ে দিতে হলে অন্য জায়গা থেকে জামাই হাওলাত করে আনতে হবে।” তৈমূর আলম খন্দকার মাদকের বিরুদ্ধে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “শুধু পুলিশ প্রশাসন দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব না। আমরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি বলেই আজ মাদকের সমস্যা এত বেশি।”তিনি তার মাসদাইর এলাকার মাদক-মুক্ত অতীতের কথা মনে করে বলেন, “এই মাসদাইরে এত সুন্দর পরিবেশ ছিল। আমাদের একটা পঞ্চায়েত ছিল। ডিসি এসে এখানে শপথ গ্রহণ করিয়ে দিত। আমরা নিয়ম করেছিলাম স্কুলের ছাত্র রাত আটটার পরে বাইরে থাকে তার জন্য বেত্রাঘাত এবং কমিটির লোকজনের ছেলে বাইরে থাকলে ডাবল শাস্তি।” তিনি এরশাদের আমলে এজন্য আটক হওয়ার ঘটনাটিও স্মরণ করেন।তৈমূর আলম খন্দকার পুলিশের ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়ে জনসাধারণের ধারণার কথা উল্লেখ করে বলেন, “তারা নাকি পাঁচ হাজার ইয়াবা ধরলে দুই হাজার দেখায়৷ পাঁচ লক্ষ ইয়াবা ধরলে দুই লক্ষ দেখায়। আমি বলছি না, বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছে।”তৈমূর আলম খন্দকারের এই মন্তব্য নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি ও মাদক সমস্যার ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দেয়। এই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।