
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য এবং ঢাকা কাস্টমসের সাবেক কমিশনার মুহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির ভয়াবহ সব অভিযোগ। কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য, শুল্ক ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাটের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগের মূল কেন্দ্রে ‘ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প’অনুসন্ধানে জানা যায়, তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে প্রভাবিত করে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ‘ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প’-এর পরিচালক (পিডি) পদটি বাগিয়ে নেন জাকির হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি বড় অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করেছেন এবং প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় করে দুই হাত ভরে লুটপাট চালিয়েছেন।হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তেশুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়েরকৃত একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় (সিআর ১১৮/২০২৫) জাকির হোসেন ১০৫ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা রয়েছে। তবে এত গুরুতর অপরাধ ও মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তিনি বর্তমানে ‘নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা’-এর মহাপরিচালক পদে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।বিপাকে সৎ কর্মকর্তারাতার এমন প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে এনবিআরের ভেতরেও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় ধরে দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তোলা তার এই ‘সাম্রাজ্য’ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা এ ধরনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারের সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।