
ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ইরি-বোরো ধান চাষ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলনের সম্ভাবনা ভালো থাকলেও সময়মতো পানি দিতে না পারায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় অধিকাংশ সেচযন্ত্র বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে পানি সংকটে অনেক ধানগাছ নুইয়ে পড়ছে এবং শীষে চিটা ধরার আশঙ্কা দ্রুত বাড়ছে। এতে সম্ভাব্য ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেচনির্ভর এই মৌসুমে নিয়মিত পানি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ডিজেলের অভাবে অনেক কৃষক জমি ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ সীমিত পরিসরে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও তা উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফসল রক্ষাও কঠিন হয়ে পড়েছে।নেছারাবাদের চামি গ্রামের কৃষক খালেক বেপারী বলেন, “সরকারিভাবে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি।”বিন্না গ্রামের কৃষক আফসার আলী জানান, “ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছি। ডিজেলের অভাবে ফসল নষ্ট হলে ঋণের বোঝা বইতে হবে।”উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “ইরি-বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”