
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুই সহযোগীকে আসামি করা হলেও তারা পলাতক রয়েছেন।শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন মাতুব্বর, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমান উল্লাহ এবং কনস্টেবল কবির ও আকাশ আহাম্মেদ। তারা সবাই ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউসিয়া এলাকায় অমিত হাসান মিরাজ নামের এক যুবককে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্তদের আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে এসআই মামুন, এএসআই আমান এবং কনস্টেবল কবির আহত হন। পরে তাদের প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এদিকে শুক্রবার ভোরে কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।মামলার বাদী অমিত হাসান মিরাজ, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকার বাসিন্দা। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা নিজেদের সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে অপহরণের চেষ্টা করেন। ঘটনার সময় তারা সবাই সাদা পোশাকে ছিলেন।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ জুন তার এক আত্মীয়কে একই চক্র অপহরণ করে কেরানীগঞ্জে নিয়ে যায় এবং পরিবারের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর তাকে ছেড়ে দেয়। এছাড়া এক মাস আগে জাকির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তিকেও একই কায়দায় অপহরণ করে মুক্তিপণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, মামলায় অভিযুক্ত গাড়িচালক আবু বক্কর সিদ্দিক ও মো. সেলিম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।