
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এম আতিকুর রহমানকে আকস্মিক বদলি করা হয়েছে। তাকে গফরগাঁও থানা থেকে প্রত্যাহার করে গৌরীপুর সার্কেল অফিসে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে আকস্মিক এই বদলিকে ‘নিয়মিত প্রক্রিয়া’ বলা হলেও এর নেপথ্যে ভিন্ন কারণ রয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলে জোর গুঞ্জন চলছে।নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে গোপন যোগাযোগের অভিযোগস্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গফরগাঁও থানায় যোগদানের পর থেকেই ওসি এ এম আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশেষ করে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন চিহ্নিত নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর গোপন যোগাযোগ ও সখ্যতার অভিযোগ ওঠে।অভিযোগ রয়েছে, পর্দার আড়াল থেকে তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের নানাভাবে সুবিধা দিচ্ছিলেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ছাত্র-জনতার মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল।জনমনে স্বস্তিবিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের সাথে আঁতাতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওসি আতিকুরের ওপর সাধারণ মানুষ চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত গফরগাঁও থানা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।এই বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গফরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতার মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, নতুন যিনি দায়িত্বে আসবেন, তিনি যেন কোনো রাজনৈতিক দল বা নিষিদ্ধ সংগঠনের তোয়াজ না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে গফরগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।