
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তা এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু, ইট ও মার্বেল টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি কার্যকর তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো কাজ পরিচালনা করছে, যা ভবিষ্যতে স্থাপনার স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘এমএসএল জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। স্থানীয় বাসিন্দা কফিল উদ্দিন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করে বছরের পর বছর ধরে ধীরগতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার। কয়েক দফা সময় বাড়ানো হলেও প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই কম।আরেক বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার কাজে এমন অনিয়ম অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।নির্মাণকাজের সাব-ঠিকাদার এজিবুল মিয়া জানান, কাজ শেষ হওয়ার বিষয়টি মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেয়, সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হেমায়েত উল্লাহ বলেন, নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী কাজ চলছে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে কাজ তদারকি করছে।লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীসহ তিন সদস্যের একটি দল নিয়ে তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনে ব্যবহৃত মার্বেল টাইলস, বালু ও ইটের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান বলেন, নির্মাণকাজ নিয়মিতভাবে তদারকি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি জানান।