
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে, ভুয়া পরিচয় দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের পকেট কাটার এক অভিনব এবং ভয়ঙ্কর খলনায়কের সন্ধান মিলেছে। তার নাম হোসেন মো. শামসুজ্জামান, তবে অপরাধ জগতে তিনি পরিচিত “মেজর জামান” বা “র্যাব জামান” নামে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডিবির সাবেক কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ (ডিবি হারুন) এবং ডিসি বিপ্লব কুমার সাহার মতো তৎকালীন ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ‘ছায়া’ ও ‘ডান হাত’ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমান্তরাল এক অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছিলেন এই মহাপ্রতারক।সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি আরও চাঞ্চল্যকর হয়ে উঠেছে কারণ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়ে খাঁচায় বন্দি হলেও, দেশে তার সেই পুরানো ক্ষমতার দাপট ও সখ্যতাকে পুঁজি করে এখনো অবাধে জاليةতি ও প্রভাব বিস্তার করে বেড়াচ্ছে এই ‘র্যাব জামান’। সম্প্রতি তার এই চক্রের টুঁটি চেপে ধরতে ভুক্তভোগীরা সোচ্চার হয়েছেন এবং বেরিয়ে আসছে একের পর এক লোমহর্ষক প্রতারণার কাহিনী।### প্রভাবের চাদরে ঢাকা ‘মহাপ্রতারক’অভিযোগের পাহাড় প্রমাণ তথ্য বলছে, শামসুজ্জামান কখনো সেনাবাহিনীর মেজর, কখনো পুলিশ কিংবা র্যাবের প্রভাবশালী কর্মকর্তা সেজে ক্ষমতার দাপট দেখাতেন। তার মূল অস্ত্র ছিল তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথিত সখ্যতা। এই ভুয়া পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি বড় বড় সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, সাপ্লাই কার্যক্রমের নিশ্চয়তা এবং লাভজনক ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের লোভ দেখাতেন। এরপর ফাঁদে পড়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি হাওয়া হয়ে যেতেন।### অবৈধ অর্থের পাহাড় ও বিলাসী জীবনপ্রতারণা ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে ঢাকার বুকে রাজকীয় জীবন যাপন করছিলেন এই ভণ্ড। জানা গেছে, হাতিরপুল এলাকার ‘শেল্টেক খেয়া’ আবাসিক প্রকল্পে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন তিনি, যা মূলত ভুক্তভোগীদের রক্তচোষা টাকায় গড়া। বর্তমানে এই স্বঘোষিত ‘মেজর জামান’-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে **২০টিরও বেশি মামলা** বিচারাধীন রয়েছে। যার প্রায় সবগুলোই ভয়ংকর আর্থিক জালিয়াতি, ভুয়া পরিচয় ধারণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার-সংক্রান্ত।### তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: ভুক্তভোগীদের তীব্র ক্ষোভবর্তমানে এই জاليةতির ঘটনাটির তদন্তভার রয়েছে নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন খানের (বিপি-৭৮০৪০৯১৫০) নেতৃত্বে গঠিত কমিটির ওপর। তবে মামলার তদন্তের ধীরগতি ও রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট অভিযোগ—তদন্তের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে গেছেন এবং অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। একজন চিহ্নিত মহাপ্রতারকের বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা থাকার পরও তদন্তে এমন চরম গড়িমসি ও উদাসীনতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েই বড় প্রশ্ন খাড়া করেছে।### ভুক্তভোগীদের হুংকার: লাইসেন্স বাতিল ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিএই ধূর্ত প্রতারক আইনি চোখ ফাঁকি দিতে একাধিক ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে তার নামে থাকা সকল ব্যবসায়িক লাইসেন্সসমূহ স্থগিত বা বাতিল করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, কোনো অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এই প্রতারক এতদিন পার পেয়ে গেলেন এবং বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা কেন টাকার কাছে বিক্রি হয়ে তদন্ত বন্ধ করে রেখেছেন, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের বিচারিক তদন্ত করা উচিত।