
নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ কর্মদিবসে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলম। দায়িত্ব ছাড়ার দিন তিনি কোথায় অবস্থান করছেন, তা নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে তৈরি হয় আলোচনা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিক ফোনকলেরও সাড়া দিচ্ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।সূত্র জানায়, সোমবার (২২ জুন) বিকেলে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স গণনার কাজ চলাকালে সারওয়ার আলম একটি মাদ্রাসার অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ঢাকা ও সিলেটের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সাড়া মেলেনি।পরবর্তীতে বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমান সার্কিট হাউজে এসে লোক মারফত তাকে সেখানে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। গণনার কাজ অসমাপ্ত রেখেই সার্কিট হাউজে পৌঁছান সারওয়ার আলম।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিজের পছন্দের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। ঊর্ধ্বতন নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।রাত ১০টা পর্যন্ত দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলে। এরপর নতুন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সারওয়ার আলমের জন্য বরাদ্দকৃত ডিসি পর্যায়ের নিরাপত্তা সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়। তিনি ওই রাতে সিলেটেই অবস্থান করলেও পরদিন দুপুরে বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে সকালে সার্কিট হাউজে কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও করেন।এদিকে দায়িত্ব ছাড়ার আগে শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন সারওয়ার আলম। গত বৃহস্পতিবার মাজারের দানবাক্সে সিলগালা করা হয়। সোমবার তা খোলার পর মাত্র তিন দিনের দানে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়।পরে ওই অর্থ জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সোনালী ব্যাংকে খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। জেলা প্রশাসকের তহবিল থেকে অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা অনুদান যোগ করায় অ্যাকাউন্টে বর্তমানে ২২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা রয়েছে। এছাড়া দানবাক্সে পাওয়া ডলার, পাউন্ড, সৌদি রিয়ালসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণালংকারও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।