
পুলিশের ইউনিফর্ম পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে সরকার।সোমবার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তার ছোট ভাই মো. ওয়াহিদুজ্জামানের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় মো. মনিরুজ্জামান পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং কার্যক্রমে অংশ নেন। পরদিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়।এ ঘটনায় একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ, উপনির্বাচনে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেননি।পরবর্তীতে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত বোর্ড অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়। দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশেরও কোনো জবাব তিনি দাখিল করেননি। অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনার পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার আওতায় ‘অসদাচরণ’ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট মো. মনিরুজ্জামান স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছিলেন। আবেদনে তিনি তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন এবং পুলিশ বাহিনীতে চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অনাগ্রহের কথা জানান।