
লাশ উদ্ধার থেকে শুরু করে হত্যা, অপহরণ কিংবা মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত—প্রায় সব ক্ষেত্রেই সরকারি বরাদ্দের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি খরচ করতে হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তাদের। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আর্থিক সংকট ও অবাস্তব বরাদ্দ ব্যবস্থাই পুলিশের মধ্যে দুর্নীতি ও ঘুষের সংস্কৃতি বিস্তারের অন্যতম কারণ।সম্প্রতি তুরাগ নদ থেকে একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। লাশটি নদী থেকে তুলতে একজন ডোমকে ৩ হাজার টাকা, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৪ হাজার টাকা এবং মর্গের ডোমকে আরও ১ হাজার টাকা দিতে হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হলেও এ খাতে পুলিশের কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। ফলে পুরো খরচ বহন করতে হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেই।ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত এক বছরে এমন একাধিক লাশ ব্যবস্থাপনায় তাকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা খরচ করতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খরচ ১৫ হাজার টাকাও ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন, “মাসিক বেতন ৪৫-৪৬ হাজার টাকা। চাকরি ঠিক রাখতে এবং দায়িত্ব পালন করতে অনেক সময় টাকা ম্যানেজ করতেই হয়।”শুধু লাশ উদ্ধার নয়, মামলার তদন্ত ব্যয়েও রয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী একটি হত্যা মামলার তদন্তে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অথচ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, একটি হত্যা মামলার প্রকৃত তদন্ত ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।এদিকে অপহরণ বা মানবপাচার মামলায় সরকারি বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা হলেও ভিকটিম উদ্ধারে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয় বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত গাড়ি সুবিধা ও সোর্স মানির অভাব রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনেও কোনো বরাদ্দ না থাকায় অনেক সময় কর্মকর্তাদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হয়।সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম মনে করেন, পুলিশের সততা ও পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে হলে তদন্ত ব্যয়সহ অন্যান্য আর্থিক সংকট দূর করা জরুরি। তার মতে, বাস্তব খরচ অনুযায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করা না গেলে দুর্নীতি কমানো কঠিন হবে।বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহায়তা ও বাস্তবসম্মত বাজেট নিশ্চিত করা গেলে ঘুষ ও অনিয়মের প্রবণতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।