
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে উচ্চমান সহকারী হওয়া এই কর্মচারীর নাম আব্দুল লতিফ। বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল-১৪-তে কর্মরত আছেন। তার এই বিপুল সম্পদের উৎস খুঁজতে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।দুদক সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন আগেও আব্দুল লতিফ একই দপ্তরে পিয়ন হিসেবে কাজ করতেন। দুদকে জমা হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, লতিফ তার সরকারি পদের আড়ালে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।বিলাসবহুল ভবন ও বেনামে সম্পত্তিঅভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানীর রহমতপুর মাতুয়াইল এলাকায় আব্দুল লতিফের একটি আলিশান বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড ও মাতুয়াইল নিউ টাউন এলাকায় নিজের এবং স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ দামী জমি কিনেছেন তিনি। বিভিন্ন আবাসিক ভবনে তার একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাবে মোটা অঙ্কের টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার থাকার তথ্যও দুদকের হাতে এসেছে।তদন্তের আঁচ পেয়ে ফ্ল্যাট বিক্রিনির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আব্দুল লতিফ কৌশলে ঢাকার কয়েকটি ফ্ল্যাট তড়িঘড়ি করে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং সেই অর্থ দিয়ে গ্রামের বাড়িতে জমি কিনেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের দায়ের করা এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দুদক নিশ্চিত করেছে।লতিফ পলাতক, দুদকের কঠোর হুঁশিয়ারিএই বিপুল সম্পদের বিষয়ে জানতে আব্দুল লতিফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এমনকি তার কর্মস্থলে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।দুদকের উপপরিচালক ফাতেমা সরকার এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন:”মামলাটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা গুরুত্বের সাথে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। তদন্তে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এক সময়ের সাধারণ পিয়ন আব্দুল লতিফ কীভাবে এই বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে এখন এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।