
বাংলাদেশ পুলিশের আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, দলীয় পারিবারিক সম্পর্ক, বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে ভূমিকা রাখা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তাদের তালিকা ও আবেদনের ফাইল অনুমোদন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।অভিযোগের তির যাদের দিকেপদমর্যাদা: তালিকায় ৩ জন ডিআইজি, ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ১ জন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ১ জন উপপুলিশ কমিশনার রয়েছেন।রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও সুবিধা ভোগ: নথিতে তাদের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থক বা সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পদোন্নতি ও সুবিধাজনক পোস্টিংয়ের জন্য নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।খালেদা জিয়ার সঙ্গে অসদাচরণ: তিন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনাটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।নির্বাচনী কারসাজি ও দমন-পীড়ন: ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারসাজিতে সহায়তার পাশাপাশি ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে-পরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।অপরাধ ও দুর্নীতি: কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, আর্থিক দুর্নীতি ও পেশাগত অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্র।দ্রুত জারি হতে পারে প্রজ্ঞাপনস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রমতে, আজ বুধবার (২২ জুলাই) অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবারের (২৩ জুলাই) মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।প্রেক্ষাপট: এর আগে দুই দফায় মোট ৩৩ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে (১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ১ জন এসপি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। যার মধ্যে গত ২২ এপ্রিল ১৩ জন (১১ ডিআইজি, ২ অতিরিক্ত ডিআইজি) এবং ৩ মে ১৭ জন কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরের মুখে পড়েন।