
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) দেশব্যাপী নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করলেও কিছু অসাদু কর্মকর্তার কারণে সরকারের লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। এমনই এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মাগুরা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। সরকারি বদলি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিগত সাড়ে ছয় বছর ধরে তিনি একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, যা নিয়ে স্থানীয় মাগুরাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।### সিন্ডিকেট ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগঅনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ২০২০ সালের ১ জুন মাগুরায় যোগদান করেন আবু বকর সিদ্দিক। এরপরই তিনি সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের মেজো ভাই আনিসুর রহমান সাচ্ছুর সাথে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নামমাত্র উন্নয়ন কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটলেও, এই আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তা এখনো মাগুরায় বহাল আছেন।### ডজনখানেক সুনির্দিষ্ট দুর্নীতিক্ষমতার অপব্যবহার ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অন্তত এক ডজন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রধান তিনটি দুর্নীতি নিচে তুলে ধরা হলো:* **বেনামী ঠিকাদারি ব্যবসা:** পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ করে, লাইসেন্স মালিকদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে তিনি নিজেই নেপথ্য থেকে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।* **স্বজনপ্রীতি ও নিজস্ব সিন্ডিকেট:** নিজের অফিসের কর্মচারী ও আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট তৈরি করে বিগত সাড়ে ৬ বছর ধরে সরকারি অর্থ লোপাট করছেন।* **৫% কমিশন বাণিজ্য:** ঠিকাদারদের কার্যাদেশ প্রদান এবং কাজের বিল পরিশোধে নানা তালবাহানা করা তার নিত্যদিনের অভ্যাস। ৫ শতাংশ ঘুষ বা কমিশন না দিলে তিনি কোনো চেকে স্বাক্ষর করেন না বলে ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ।উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।