
দেশের আর্থিক খাতকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে যাওয়া বিতর্কিত শিল্প গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ৫ মাসের দেওয়ানি সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ইসলামী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৮৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রামের অর্থ ঋণ আদালত-১ এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন এই কঠোর রায় দেন।আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. এরশাদ বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন।বন্ধক ছাড়াই শত কোটি টাকা লোপাটমামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংক এই খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য মামলাটি দায়ের করে। গত বুধবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই কঠোর নির্দেশ দেন। ব্যাংকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই বিশাল অঙ্কের ঋণের বিপরীতে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়নি, যা আর্থিক খাতের চরম অনিয়ম ও যোগসাজশের প্রমাণ।শুধু তাই নয়, ডিগ্রি জারির পরও বিবাদীদের মালিকানাধীন কোনো দৃশ্যমান স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রভাবশালী এই চক্রটি ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়ার ন্যূনতম ইচ্ছাও দেখায়নি।> “ঋণের টাকা আদায়ে অন্য কোনো উপায় না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী দায়িকদের দেওয়ানি সাজার আবেদন জানায়। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে ৫ মাসের সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।”> — **মো. এরশাদ, বেঞ্চ সহকারী, অর্থ ঋণ আদালতসাজাপ্রাপ্ত আসামিদের তালিকাসাজা পরোয়ানা জারি হওয়া মূল অভিযুক্ত সাইফুল আলম ছাড়া বাকি ১০ আসামি হলেন:* **গুফরানুল আলম** (চেয়ারম্যান, ওজি ট্রাভেলস লিমিটেড)* **হাকিম আলী** (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওজি ট্রাভেলস লিমিটেড)* **মোহাম্মদ সাইফুল আলম** (চেয়ারম্যান, এস আলম গ্রুপ)* **ওসমান গনি*** **মো. রাশেদুল আলম*** **ফারজানা বেগম*** **আবদুস সামাদ*** **মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান*** **শহীদুল আলম*** **ফারজানা পারভীন*** **আহসানুল আলম**### লুটপাটের সাম্রাজ্যে টানবিগত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিল এস আলম ও তার পরিবার। ইতোমধ্যে এস আলম, তার পরিবারের সদস্য এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে তাদের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জব্দ করার আদেশ এসেছে আদালত থেকে। আর্থিক অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আদালতের এই কঠোর পদক্ষেপকে একটি দৃষ্টান্তমূলক সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।