
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন ‘চেয়ারম্যান বাংলো’ সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ৩০ লাখ টাকার প্রাথমিক বাজেট বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা মূল প্রাক্কলনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এই বিশাল ব্যয়বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘পরিকল্পিত লুটপাট’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দুর্নীতির নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে রাজউকের দুই প্রভাবশালী কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন— প্রধান নগর স্থপতি মোস্তাক আহমেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাহাত মুসলিমীন।টেন্ডার ছাড়াই শুরু হয় কাজতদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের কোনো সংস্কার কাজে উন্মুক্ত দরপত্র বা টেন্ডার আহ্বান করা বাধ্যতামূলক হলেও এক্ষেত্রে তার তোয়াক্কাই করা হয়নি। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে কোনো প্রকার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই কাজ শুরু করা হয়। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, কাজের ৮০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে লোক দেখানো বা নামমাত্র একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। তদন্ত কমিটি এই প্রক্রিয়াকে ‘নিয়ম লঙ্ঘন’ এবং ‘প্রহসনমূলক দরপত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছে।দুর্নীতির প্রধান খাতসমূহ:অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি: ৩০ লাখ টাকার কাজকে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকায় রূপান্তর।স্বচ্ছতার অভাব: সরকারি অর্থ ব্যয়ে চরম অস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি।আইন লঙ্ঘন: টেন্ডার ছাড়াই কাজ শুরু করে পরবর্তীতে ভুয়া প্রক্রিয়ায় তা বৈধ করার চেষ্টা।বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশতদন্ত প্রতিবেদনে মোস্তাক আহমেদ ও রাহাত মুসলিমীনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের প্রত্যক্ষ মদদে ও পরিকল্পনায় এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লোপাট হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।রাজউকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন অনিয়মে জড়িত থাকার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— এত বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের অনুমোদন কারা দিয়েছিল এবং কেনই বা তদারকি করা হয়নি?