
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় লেগুনাচালক মোঃ নূরে আলম ইসলাম ওরফে খাইরুলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এস এস হাসান সিদ্দিকী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার, সিপিসি-১।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হয়।মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দুই থেকে তিন দিন আগে যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগাং রোডগামী লেগুনা স্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে আসামি মোঃ হৃদয় হোসেন (২৪)-এর সঙ্গে ভিকটিম খাইরুল (৩৫)-এর বাকবিতণ্ডা হয়। ওই সময় ভিকটিমকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানাধীন কুতুবখালী এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সুফিয়া গার্মেন্টসের সামনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হৃদয় হোসেন ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (মামলা নং–৫৭) রুজু করা হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।র্যাব জানায়, তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুতুবখালী মাছের আড়ৎ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ সোহান মুন্সী (২৯) কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল পৌনে ৪টার দিকে গেন্ডারিয়া থানাধীন দয়াগঞ্জ মোড় এলাকা থেকে মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ হৃদয় হোসেন (২৪) এবং একই দিন বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মীর হাজিরবাগ পাইপ রোড এলাকা থেকে ৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ শাকিল (২৯) কে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।