
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় নাকাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সাশ্রয় হওয়া ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের নাকাই খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা। কাজ শেষে অবশিষ্ট ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৯২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়। এর মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।এছাড়া খালের দুই পাড়ে নারিকেল, জাম, আম ও নিমগাছসহ মোট ১ হাজার ৪৪০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১২ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা জানান, সদ্য বিদায়ী ইউএনও শেখ জাবের আহমেদ নিয়মিত প্রকল্পের কাজ তদারকি করেছেন। তার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুরো প্রকল্পজুড়ে ব্যয় ও কাজের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধের পরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থাকে। সরকারি বিধি অনুসারে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নাকাই খালটি দিয়ে অন্তত ২০টির বেশি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় আমন ধান চাষ ব্যাহত হতো। খাল পুনঃখননের ফলে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জলাবদ্ধতা কমেছে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলও পুনরুদ্ধার হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।