
দেশের ব্যাংকিং খাতে বিগত ১৫ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি এবং বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনা অনুসন্ধানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর—ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির এবং আবদুর রউফ তালুকদারের যাবতীয় কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত নথি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।### অভিযোগের বিবরণ ও দুদকের পদক্ষেপক্ষমতার অপব্যবহার, নীতিমালায় বেআইনি ছাড় দিয়ে ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, এস আলম গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট ও জালিয়াতিতে নীতিগত সহায়তা এবং রিজার্ভ চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই সাবেক গভর্নরদের বিরুদ্ধে।অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে মূলত কয়েক ধরনের নথিপত্র তলব করা হয়েছে: * **ঋণসীমা ও পুনঃতফসিল নথি:** ২০১৬ এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট (একক গ্রাহকের ঋণসীমা) লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড় এবং বড় ঋণ পুনঃতফসিলের সব অনুমোদনের কপি। * **পরিচালনা পর্ষদের তথ্য:** ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা ও কার্যকালের বিস্তারিত তথ্য। * **এস আলম গ্রুপের সুবিধা সংক্রান্ত নথি:** এস আলম গ্রুপকে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানা দেওয়ার অনুমোদনপত্র, সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের মেয়াদে টাকা ছাপিয়ে নগদ সহায়তা দেওয়ার নোটশিট এবং বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা। * **রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত প্রতিবেদন:** বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহার তদন্ত প্রতিবেদন।### বর্তমান পরিস্থিতিইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কিছু তথ্য ও রেকর্ডপত্র পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী সব তথ্য না পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পুনরায় তাগিদপত্র দেওয়া হবে। দেশের ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার পেছনের কুশীলবদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।