
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও দেশে দ্বিতীয় কোনো জ্বালানি তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) গড়ে না ওঠায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, জ্বালানি সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ-এ ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সেনাপ্রধান বলেন, দেশে অপরিশোধিত তেল থাকার পরও নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা না থাকায় বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এর উন্নয়ন বা সম্প্রসারণ দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট হয় জ্বালানি সংকট কীভাবে প্রতিটি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে।প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, সমুদ্রপথ সুরক্ষায় শক্তিশালী নৌবাহিনী এবং আকাশপথ রক্ষায় আধুনিক বিমানবাহিনী অপরিহার্য। তিনি জানান, বাংলাদেশ যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াচ্ছে। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সামরিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান টেকসই উন্নতি করতে পারে না। জনগণের জানার অধিকার রয়েছে এবং সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য জনগণের সামনে আসা উচিত।রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুর কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান তরুণদের দক্ষ ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভুলের মূল্য অনেক বেশি, তাই জাতীয় নিরাপত্তা ও নেতৃত্বে বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিন সপ্তাহব্যাপী এই ক্যাপস্টোন কোর্স জাতীয় নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।