
র্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আয়না ঘরের মতো অপসংস্কৃতির জন্ম দেওয়ার পর ডিজিএফআই টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।’গুম ও খুনের ঘটনায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা শুরু করেন। তবে জেরা অসম্পূর্ণ থাকায় আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।এর আগে রোববার দেওয়া জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দীকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাহিনীপ্রধানদের মধ্যে নিজেকে ‘সুপার চিফ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব, এনটিএমসি, আনসার ও বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে চারটি চক্রের উদ্ভব ঘটে। এর মধ্যে একটি ছিল অপরাধ চক্র, যেখানে ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব ও এনটিএমসিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, হত্যা ও গুমের মতো কর্মকাণ্ড চালানো হতো।২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারত ও আওয়ামী লীগবিরোধী মনোভাব তীব্র হয়। সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে বিভাজন ব্যাপক আকার ধারণ করে।’