
টাকার যোগান দিতে কারাগারে নানারকম অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সিনিয়র জেল সুপার লেভেলের কর্মকর্তাও তাদেরকে সমর্থন করে চলে। সূত্র মতে, জাকির হাসান রিয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রতি একান্ত অনুরক্ত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সে কাশিমপুর কারাগার থেকে রাজবাড়ী কারাগারে বদলি হয়। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে পট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সুপারিশ করিয়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে দু’বার বদলি হয়ে লোভনীয় পিএইডি এর দায়িত্ব বাগিয়ে নেয়। তার আগেও সে কারা অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে। সে ঘুরেফিরে দীর্ঘদিন যাবৎ কারা অধিদপ্তরের কেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। কারা বিভাগে যোগদানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে তাকে দূরে কোথাও কাজ করতে হয়নি। ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন অলিগলি সম্পর্কে তার জানা আছে। তাই হাজার কোটি টাকাওয়ালা আওয়ামী লীগের কারাগারে থাকার সময়ে পিএইডি পদের গুরুত্ব সে ভালোভাবেই বুঝে যায়। ফ্যাসিবাদের আমল থেকেই দীর্ঘ অনেক বছর ধরে সে কারা অধিদপ্তরে তার কুপ্রভাব ধরে রেখেছে। বিভিন্ন সময় সুবিধাজনক বদলি প্রদানের জন্য সে সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে কাজ করেছে।বর্তমানে সে সিন্ডিকেটের কলেবর। কারা অধিদপ্তরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কর্মকর্তাদের বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। আর অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল সিকিউরিটি ইউনিটের ডেপুটি জেলার মো. জাকির হাসান রিয়াল এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আবার অনেকে তাকে বদলি বাণিজ্যের নায়ক হিসেবেও চিহ্নিত বলে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে।সূত্র জানায়, একসময়কার ছাত্রলীগের নেতা জাকির হাসান রিয়াল টাকার বিনিময়ে যে কাউকে বদলি হতে সহযোগিতা করে। সকল পোস্টিং বাণিজ্যের সাথে সে জড়িত। এছাড়া বাংলাদেশের সবগুলো কারাগারে পিএইডি সদস্যদেরকে বিভিন্ন কারাগারে টাকার বিনিময়ে বদলির ব্যবস্থা করে থাকেন। কারাগারগুলোতে বদলির ক্ষেত্রে আড়াই লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকেন। কাশিমপুর (১-৪), ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বদলির জন্য বেশি টাকা নিয়ে থাকেন। আবার প্রতি কারাগারের পিএইডি সদস্যদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা মাসোয়ারা আদায় করেন ডেপুটি জেলার জাকির হাসান রিয়াল। পিএইডি সদস্যরা তার মাসোয়ারার টাকার যোগান দিতে কারাগারে নানারকম অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।