
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার হস্তান্তর ও বিপুল অঙ্কের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্স এবং এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।ইসলামী ব্যাংকের করা রিটের পর ২০২৫ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি ওয়ালিউল ইসলামের বেঞ্চ তিনটি নির্দেশনা ও রুল জারি করেন। নির্দেশনায় ৫ আগস্টের আগে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পূর্ববর্তী পরিচালকরা আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না, তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকবে এবং জেএমসি বিল্ডার্সের কোনো শেয়ার হস্তান্তর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিএফআইইউকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর বিএফআইইউ প্রতিবেদন জমা দিলেও দীর্ঘদিন এ বিষয়ে শুনানি হয়নি। আগামী বুধবার বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চে এ প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।মামলায় ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ব্যারিস্টার মো. আব্দুল কাউয়ুম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ এবং ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।আইনজীবী শিশির মনিরের দাবি, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগ পর্যন্ত মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের ২৪টি কোম্পানির নামে মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদনে যুক্ত ছিলেন।তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে পারে। কিন্তু এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো জালিয়াতির মাধ্যমে ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মোট প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে। এর মধ্যে জেএমসি বিল্ডার্সের নামে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।রিটে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়া শেয়ার প্রকৃত উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন বিষয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।