
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নেপথ্য কারিগর ও আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম অনুগৃহীত পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদ ‘যুগ্ম কমিশনার (প্রশাসন)’ হিসেবে।বিসিএস ২০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০১৫ সাল থেকে টানা এক দশক ধরে একই সংস্থায় কীভাবে আঁকড়ে আছেন, তা নিয়ে পুলিশের ভেতরে ও বাইরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ও পলাতক কর্মকর্তাদের সাথে গভীর সখ্যতাঅনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদা ইয়াসমিন আওয়ামী আমলের বিতর্কিত ও পলাতক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন ছিলেন।হাবিবুর রহমান ও বেনজীর আহমেদ: ডিআইজি হাবিবুর রহমান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া থেকে শুরু করে তৎকালীন ফাঁসির আসামি ও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে তাঁর ছিল একান্ত ব্যক্তিগত ও কৌশলগত সখ্যতা।ডিএমপির নিয়ন্ত্রণ ও কলকাঠি নাড়া: অভিযোগ রয়েছে, ডিএমপির কনস্টেবল থেকে শুরু করে ওসি, ডিসি ও ডিআইজি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি, পদায়ন এবং নিয়ন্ত্রণ করার নেপথ্য মূল চালিকাশক্তি ছিলেন এই ফরিদা ইয়াসমিন।গোয়েন্দা সূত্রের খবর: বর্তমানে তিনি ডিএমপিতে বসে দেশে ও বিদেশে পলাতক আওয়ামীপন্থী শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং বিরোধী মতাদর্শী ও বিএনপি সমর্থক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও কলকাঠি নাড়ছেন।পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নডিএমপির মতো স্পর্শকাতর একটি বিভাগে এমন একজন চিহ্নিত ও বিতর্কিত কর্মকর্তা কীভাবে এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর কেন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে ডিএমপি থেকে প্রত্যাহার করে আইনি আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।