
রাজধানীর গুলশানে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের একটি সরকারি সম্পত্তি বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পেছনে প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গুলশান সিইএন (সি) ব্লকের ৯৮ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর প্লটটি ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয় এবং ১৯৭৩ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।তবে ১৯৭৬ সালে একটি রিট মামলার রায়ে প্লটটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত নয় বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলায় সরকারপক্ষ প্রয়োজনীয় গেজেট ও নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করেনি। ফলে রায় সরকারের বিপক্ষে গেলেও পরবর্তীতে রাজউক বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আপিল করেনি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুনে তৎকালীন পূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন অত্যন্ত গোপনে একটি অনুশাসন জারি করে প্লটটি বেসরকারি দাবিদারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়নি এবং নথি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্যও উপস্থাপন করা হয়নি।এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।নথি অনুযায়ী, প্লটটির বর্তমান বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। অথচ এটিকে রাজউকের পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকায় নেই—এমন যুক্তি দেখিয়ে সরকারি মালিকানা থেকে বের করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি বেহাতের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।