
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আহম্মদুল্লাহ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।চলতি মাসের ১৩ তারিখে আহম্মদুল্লাহকে বিপিসি থেকে বদলি করে ঢাকার Meghna Petroleum Limited-এর লিয়াজোঁ অফিসে সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিপিসি বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শুধুমাত্র বদলির আদেশ দিয়েই বিষয়টি থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা গেছে, ২০১৯ সালে বিপিসিতে উপ-ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন মো. আহম্মদুল্লাহ। তার নিয়োগ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের আশীর্বাদেই তিনি চাকরি পান। একসময় তিনি চেয়ারম্যানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন। সেই সম্পর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়ও তাকে চাকরি পেতে সহায়তা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার দিবাকর কাঠি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে চাকরি নেন। চাকরির সময় জমা দেওয়া এক প্রত্যয়নপত্রে তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তার পরিবারের সদস্যরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ ছিল।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিপিসিতে প্রবেশের পর দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন আহম্মদুল্লাহ। বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদটি সহকারী ব্যবস্থাপক (৯ম গ্রেড) সমমানের হলেও উপ-ব্যবস্থাপক (৬ষ্ঠ গ্রেড) হয়েও তিনি দীর্ঘদিন ওই পদে বহাল ছিলেন।অভিযোগ রয়েছে, এই পদ ব্যবহার করেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।এদিকে আহম্মদুল্লাহর শ্বশুর ছিলেন প্রয়াত রেলমন্ত্রী Suranjit Sengupta-এর ব্যক্তিগত সহকারী। সেই রাজনৈতিক প্রভাবের ধারাবাহিকতায় আহম্মদুল্লাহও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর বিপিসির তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) মো. আবুল কালাম আজাদ একটি চিঠির মাধ্যমে ‘ওটি ইস্টার্ন কেরিয়ার-২’ নামের একটি শ্যালো ড্রাফট ট্যাংকার চার বছরের জন্য প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। ওই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় জাহাজ মালিক প্রতিষ্ঠান এবং বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আহম্মদুল্লাহকেও। এ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।তবে এ বিষয়ে আহম্মদুল্লাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।