
৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর খোলস বদলে ভোল পাল্টেছেন অনেক বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা। তাদেরই একজন নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন খান [বিপি-৭৮০৪০৯৯১৫০]। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বরিশালে ফাঁড়ি ইনচার্জ থাকাকালীন যিনি ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের দমনে ছিলেন সিদ্ধহস্ত এবং অভিযোগ রয়েছে, নিউমার্কেট থানার এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে সাবেক পলাতক ডিআইজি হাবিবের ঘনিষ্ঠ বলয়ে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন মহলে তাকে হাবিবের “বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ার” হিসেবেও আলোচনা করা হয়। বিতর্কিত ওই সাবেক ডিআইজিকে ফ্যাসিস্ট আমলের অন্যতম ক্ষমতাধর ও সমালোচিত কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যা দেন অনেকেই।### **সাক্ষী-প্রমাণ জিম্মি: ৫ লাখ টাকায় সত্য খুনের মহোৎসব**নিউমার্কেট থানায় দায়েরকৃত একটি স্পর্শকাতর মামলায় স্বয়ং বাদী, একজন ব্যাংক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ৫ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেওয়ার পরও মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তভার অন্য কোনো দারোগাকে না দিয়ে আনোয়ার নিজেই তা কুক্ষিগত করে রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, আসামিপক্ষের কাছ থেকে ৫ লক্ষাধিক টাকার অনৈতিক সুবিধা (ঘুষ) নিয়ে প্রকাশ্য সাক্ষী থাকার পরও মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি চরম মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তিনি।### **ওসির নাম ভাঙিয়ে একচ্ছত্র ‘মামলা সিন্ডিকেট’**নিউমার্কেট থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার ব্যাচমেট হওয়ার সুবাদে আনোয়ার হোসেন থানায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। ওসির নাম ভাঙিয়ে সিআর ও জিআর মামলার বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা তার নিত্যদিনের রুটিন। শুধু তাই নয়, এলাকার মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অবৈধ আয়ের উৎস থেকে নিয়মিত মাসোহারা তোলার পাশাপাশি কোনো দারোগাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছেন না তিনি। যে মামলায় স্থাবর-অস্থাবর বা বিপুল অর্থের লেনদেন থাকে, জোরপূর্বক সেই মামলার ডায়েরি নিজের জিম্মায় নিয়ে নেন আনোয়ার।### **লক্ষ্য ডিএমপির ওসি পদ: অবৈধ সম্পদের পাহাড়**ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাথে প্রতারণা করে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে আনোয়ার হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে গড়ে উঠেছে বিপুল অবৈধ সম্পদ। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, বর্তমানে ডিএমপির কোনো একটি থানার পূর্ণাঙ্গ ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) পদবি পাওয়ার জন্য ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার ‘তদবির বাজেট’ নিয়ে মাঠে নেমেছেন এই কর্মকর্তা।সাক্ষী ও তথ্যপ্রমাণ থাকার পরও একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য জালিয়াতি এবং অর্থলিপ্সার কারণে ভেঙে পড়েছে নিউমার্কেট থানার সাধারণ ডায়েরি ও তদন্ত ব্যবস্থা। এই লটারি কর্মকর্তার দুর্নীতির শেকড় কতদূর? **জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বে।**—*(চলবে…)*