
মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের মানুষের ওপর যারা গুলি চালিয়েছিল এবং নির্যাতন চালিয়েছিল, তারা বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলে অবস্থান করছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়ারপুর ইউনিয়নের ভাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “ঝাঁটিভাঙা কিংবা শুকানপুকুরির সেই স্মৃতিসৌধের কথা কি আপনারা ভুলে গেছেন? সেখানে যাদের নাম খোদাই করা আছে, তাদের যারা গুলি করে হত্যা করেছিল—ওরাই এখন ওই রাজনৈতিক দলে রয়েছে।”গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর আমরা ভোট দিতে পারিনি। ভোটের আগেই ভোট হয়ে গেছে, কখনো আগের রাতেই। ফলে মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়নি। এবার সেই সুযোগ এসেছে। আগামী ১২ তারিখে আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন।”হাসিনা সরকারের বিদায় প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আগের সেই সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের প্রিয় ‘নৌকা’ প্রতীকও এবার নির্বাচনে নেই। এখন মূল লড়াই হচ্ছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।”দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, “ওদের প্রার্থীকে আমরা খুব একটা চিনি না। যে দাঁড়িয়েছে, সে একেবারে বাচ্চা ছেলে। এমপি হতে হলে অভিজ্ঞতা ও ওজনদার ব্যক্তিত্ব দরকার। তার আরও অনেক পথ চলা বাকি।”হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা এক বৃত্তের দুটি ফুলের মতো। এখানে মসজিদ-মন্দির পাশাপাশি আছে। কেউ কারো সমস্যা করে না। কিছু লোক মাঝে মাঝে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে—তাতে ভয় পাবেন না। ভয় পেলেই শেষ।”তিনি আরও বলেন, “বিএনপি শহীদ জিয়ার দল, বেগম খালেদা জিয়ার দল। আপনাদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা বুকের রক্ত ঢেলে দেব। হাসিনা আপনাদের বিপদে ফেলে পালিয়েছে, কিন্তু আমরা আপনাদের পাশেই আছি।”বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সবাইকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই দেশ কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এই দেশ সবার। আমরা পরীক্ষিত মানুষ—আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন।”