
সালথা উপজেলা-য় পূর্ব শত্রুতার জেরে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বালিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বর্তমানে তারা দুজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সমর্থক হিসেবে পরিচিত, যদিও অতীতে তারা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার বিকেলে। দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক আরিফ মাতুব্বরকে ভ্যান থেকে নামিয়ে মারধর করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সন্ধ্যার পর উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতভর টর্চলাইট জ্বালিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয় এবং একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক আবুল শেখের তিনটি গরু লুটের অভিযোগও উঠেছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে বিএনপি নেতা জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।মো. বাবুলুর রহমান খান, সালথা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জানান—খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।