
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো।দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্য নির্বাচনি প্রচারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের পাঁচ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।একই অভিযোগে ছাত্রদলের ৯ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।সোমবার দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রবিন আহম্মেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুবদলের বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়- মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এসএ জিন্নাহ কবীরের পক্ষে দলীয় প্রতীক ধানের শীষে প্রচারণায় অংশ না নিয়ে যুবদলের ওই পাঁচ নেতা দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কৃত এক বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।বহিষ্কৃত যুবদল নেতারা হলেন- দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারি ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আবুল বাসার, কলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জসিম, জিয়নপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতোয়ার হোসেন ও আবদুর রহিম এবং বাঘুটিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মো. হাতেম আলী।দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সেলিম ও সদস্য সচিব মো. আবদুস সালামের সিদ্ধান্তক্রমে তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।এ বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে একই অভিযোগে ছাত্রদলের ৯ নেতাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. শোয়েব হোসেনের স্বাক্ষরিত এক পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।শোকজপ্রাপ্ত ছাত্রদল নেতারা হলেন- জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, আরুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাগর খান, মহাদেবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিক মিয়া, শিবালয় ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার মিয়া, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইমদাদুল হক, শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হৃদয় হোসেন, দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান এবং ঘিওর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। দায়িত্বশীল পদে থেকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সাংগঠনিক অপরাধ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল খালেক শুভ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুর রহমান খানের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল খালেক শুভ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্য নির্বাচনি প্রচারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন বহিষ্কৃত ও ৯ জনকে শোকজ করা হয়। মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এসএ জিন্নাহ কবীর ছাড়াও বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী তোজাম্মেল হকসহ মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।