
বরগুনার পাথরঘাটায় থানায় যাওয়ার পথে এক নারী মামলার বাদীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মামলার প্রধান আসামির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনামের বিরুদ্ধে ওই নারীকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও সামনে এসেছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগকারী ফাতিমা জামাদ্দার অর্পা জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে পাথরঘাটা থানায় যাওয়ার পথে তার পথরোধ করা হয়। পরে তাকে মারধর করে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।এদিকে অর্পার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে আটক করার পরও ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিনই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে বরগুনার অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ফাতিমা জামাদ্দার অর্পার অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পাথরঘাটা থানাকে নির্দেশ দেয়।তবে অর্পার দাবি, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করা হয়। এ সময় থানায় গেলে তিনি সহযোগিতার পরিবর্তে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। তার অভিযোগ, ওসি তাকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা তাকে মানসিকভাবে অপমানিত ও বিব্রত করেছে।পাথরঘাটা উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবুও দাবি করেন, তার উপস্থিতিতে বাদীকে উদ্দেশ করে ওসি আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওসি মোহাম্মদ এনামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, ওসির বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, হামলার ঘটনা ও ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন করা হোক এবং প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।