
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাহাত আলীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং তাকে থানা থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসির কক্ষে আপত্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।’ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া’-এর বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ওসির সাথে অসদাচরণকারী ওই যুবকের নাম রাইসুল ইসলাম জুয়েল। সে আসলে একজন “হাইব্রিড নেতা”। নিজের ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিল করতে এবং থানায় উশৃঙ্খল আচরণ করে জুয়েল মূলত নিজের দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।ঘটনার সূত্রপাত’ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া’-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে রাইসুল ইসলাম জুয়েলের সাথে তার পূর্বপরিচিত বন্ধু, অর্গানাইজার ও ফটোগ্রাফার সুমনের একটি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মারামারি হয়। এই মারামারির ঘটনায় জুয়েল ও সুমন উভয়েই কমবেশি আহত হন। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য তারা উভয় পক্ষ রমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রাহাত আলীর কক্ষে যান।ওসির কক্ষে অসদাচরণ ও ডিসি-ওসির চাকরি খাওয়ার হুমকিথানা সূত্রে জানা যায়, ওসির কক্ষে কথা বলার এক পর্যায়ে রাইসুল ইসলাম জুয়েলের কণ্ঠস্বর উগ্র ও উচ্চগ্রামের হয়ে ওঠে। ওসি তাকে শান্ত হয়ে কথা বলতে বললে, সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ওসির সাথে চরম অসদাচরণ শুরু করে। শুধু তাই নয়, জুয়েল ওসির রুমে বসেই অত্যন্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং “ওসি ও ডিসির চাকরি খেয়ে ফেলব”, “থানা উড়িয়ে দেব” বলে সরাসরি হুমকি ও ধমকি প্রদান করে। ওসির কক্ষে এমন উশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে সে পুরো প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর চেষ্টা চালায়।নেপথ্যের কারণ: ফুটপাত উচ্ছেদ ও চাঁদাবাজি বন্ধ’ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই চক্রান্তের পেছনে রয়েছে আরও গভীর কারণ। রমনা থানার বর্তমান ওসি যোগদানের পর থেকেই বেইলি রোডসহ আশেপাশের এলাকার ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে এবং যানজট নিরসনে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে বেইলি রোডের ফুটপাতে অবৈধ খাবারের দোকান উচ্ছেদ করায় সেখানে প্রতিদিনকার হাজার হাজার টাকার চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে গেছে।এই চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ায় এবং ফুটপাত বসাতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সাংবাদিক নামধারী সুযোগসন্ধানী মহল ওসির ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ তৈরি করে। ওসির কাছ থেকে কোনো প্রকার অনৈতিক সুবিধা বা কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পেরেই তারা জুয়েল ও সুমনের মারামারির ঘটনাটিকে পুঁজি করে ওসির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মাঠে নেমেছে।পরিকল্পিত নাটক ও অপপ্রচারঅভিযোগ রয়েছে, ওসির কক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ বিকৃত করে রাইসুল ইসলাম জুয়েল এবং তার মদদদাতারা একটি প্রিপ্ল্যান্ড বা পূর্বপরিকল্পিত নাটক সাজিয়েছে। সাধারণ একটি ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ওসিকে কোণঠাসা করার জন্যই মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষের মতে, রমনা এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে অনেক ভিভিআইপিদের বসবাস। বর্তমান ওসি যোগদানের পর থেকে এলাকায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও এলাকার মান-সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতেই ওসি এই কঠোর পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলেন, যা অপরাধী চক্রের সহ্য হয়নি।এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ওসির বিরুদ্ধে চলা এই চক্রান্তের পেছনের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।