
অভিজাত এলাকায় সেবার মুখোশে কোটি কোটি টাকার হরিলুট; প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই চলছে ‘পারিবারিক সিন্ডিকেট’; দুর্নীতি দমন কমিশন ও এনবিআর-এ যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ**নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা****১৪ জুলাই, ২০২৬****ঢাকা:** রাজধানীর বুকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক) শিশুদের থেরাপি ও শিক্ষার নামে গড়ে উঠেছে এক অমানবিক ও অনৈতিক বাণিজ্যের জাল। শান্তিনগর, বেইলি রোড এবং গুলশানের মতো অভিজাত এলাকাগুলোতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র জিম্মি করে ফেলেছে শত শত ভুক্তভোগী অভিভাবককে। সেবার মুখোশ পরা এসব নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের লাগামহীন ফি, অপেশাদারিত্ব এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া’।ইতিমধ্যেই এই চক্রের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানী সেল।**💸 সেবার আড়ালে পকেটকাটা বাণিজ্য: কত টাকা লুটে নিচ্ছে এই চক্র?**‘ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া’-র অনুসন্ধানে জানা গেছে, অটিস্টিক শিশুদের ভর্তি, সেশন ও থেরাপির নামে অভিভাবকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অবিশ্বাস্য ও অযৌক্তিক সব ফি-র তালিকা। কোনো নীতিমালা না মেনেই চক্রটি প্রধানত যেসব খাতে ফি নির্ধারণ করে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তার একটি খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো: * **বাৎসরিক ভর্তি ও পুনর্ভর্তি ফি:** সাধারণ স্কুলে একবার ভর্তি ফি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও, এই বিশেষ স্কুলগুলো প্রতি বছর ‘সেশন চার্জ’ বা ‘ভর্তি ফি’র নামে ২৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। * **বিশেষ থেরাপি ফি:** প্রতি সেশনে থেরাপির নামে নামমাত্র সেবায় নেওয়া হচ্ছে ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা। * **দৈনিক ক্লাস ও সেশন ফি:** প্রতিটি ক্লাসে অংশ নেওয়ার জন্য দৈনিক ২,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। * **হিডেন চার্জ ও যাতায়াত:** এছাড়াও দৈনিক যাতায়াত ও অন্যান্য কাল্পনিক খরচ বাবদ বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া হচ্ছে আরও ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা।**🚫 যোগ্যতা ও অনুমোদনহীন ‘পারিবারিক ব্যবসা’**অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। এসব তথাকথিত স্পেশাল স্কুলের শিক্ষকদের সিংহভাগের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি, চাইল্ড সাইকোলজি বা বিশেষ শিক্ষার (Special Education) ওপর কোনো প্রশিক্ষণ। কোনো রকম সরকারি লাইসেন্স, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদন বা সঠিক কারিকুলাম ছাড়াই নিছক স্বামী-স্ত্রী মিলে বা পারিবারিক উদ্যোগে খুলে বসেছেন এসব কোটি টাকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।সন্তানের সুস্থতা ও একটু স্বাভাবিক জীবনের আশায় অভিভাবকেরা ঘটিবাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও, আদতে শিশুরা কোনো সঠিক থেরাপি বা শিক্ষা পাচ্ছে না। উল্টো, কোনো অভিভাবক এই মাত্রাতিরিক্ত ও অন্যায্য খরচের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের সন্তানকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার মতো মানসিক ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে।**🚨 ‘ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া’-র রাডারে নামী-দামী স্কুল: চলছে চিরুনি অভিযান**এই নির্মম ও অনৈতিক বাণিজ্যের রাশ টানতে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ‘ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া’ টিম। রাজধানীর শান্তিনগর, বেইলি রোড কিংবা গুলশান এলাকার বেশ কিছু স্বনামধন্য ও সুপরিচিত অটিজম স্কুল ও থেরাপি সেন্টার—যেমন উইলোস অটিজম স্কুল, কেয়ার অটিজম সেন্টার, অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (AWF), ব্লু স্কাই অটিজম স্কুল, বিউটিফুল মাইন্ড, ঢাকা অটিজম স্কুল, এনএসিডি বাংলাদেশ, অ্যাসিস্ট ইনস্টিটিউট ফর চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট কিংবা **ব্রেনিয়াক থেরাপি সেন্টার (Brainiac therapy centre)**-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড এখন আমাদের বিশেষ নজরদারি ও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।**ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া-র স্পষ্ট হুঁশিয়ারি:**> “অভিজাত এলাকার এসব প্রতিষ্ঠানে সেবার আড়ালে কী চলছে, কীভাবে অভিভাবকদের জিম্মি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে—তার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ আমাদের অনুসন্ধান দলের হাতে আসতে শুরু করেছে। কোনো শিশুকে অবহেলা করা বা অভিভাবকদের ওপর অন্যায্য ফি চাপানোর প্রমাণ পেলেই আমরা তার কঠোর আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করব। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”> **⚖️ আইনি হুঁশিয়ারি: দুদক ও এনবিআর-এ যাচ্ছে আবেদন**এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামাতে এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যানেল আইনজীবীদের মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই আইনি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।**আমাদের গৃহীত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তসমূহ:** * **কর ফাঁকি ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান:** নামসর্বস্ব এবং অতি-বাণিজ্যিক এসব স্কুলের অবৈধ আয়ের উৎস খতিয়ে দেখতে এবং বড় অঙ্কের কর ফাঁকির রহস্য উন্মোচনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর কাছে নথিপত্র জমা দেওয়া হবে। * **দুদকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ:** শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসার নামে অর্থ পাচার ও অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেশ করা হবে।এই অসাধু চক্রের হাত থেকে অসহায় শিশুদের ও তাদের ভুক্তভোগী অভিভাবকদের রক্ষা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনের কঠোর ও তাৎক্ষণিক নজরদারি কামনা করছেন সাধারণ মানুষ।**[সম্পাদকের নোট:]**ঢাকার শান্তিনগর, বেইলি রোড ও গুলশান এলাকার সুনির্দিষ্ট কিছু অটিজম স্কুল ও থেরাপি সেন্টারের ভেতরের হরিলুট, গলাকাটা ফি আদায়ের অডিও রেকর্ড এবং গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও প্রমাণসহ ‘ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া’-র বিশেষ অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী সংখ্যায়। চোখ রাখুন!